মহুয়া দাসের দুটি কবিতা

 


জলটুঙ্গী

কি সব অদ্ভুত সুন্দর নদী আর রাতের কাছে 

বাঁধা পড়ে যাই আজকাল

কি যে ছলাৎ ছলাৎ আওয়াজ

কানে লেগে আছে এখনও।

বাকিটা বুকে বেঁধে এনেছি ঘরে।

এখন বিছানায় শুয়ে 

ছলাৎ ছলাৎ গুনি।

গঙ্গা না পদ্মা 

সব গুলিয়ে যায়।

শুধু বুঝি

ওই জল আবার আমাকে 

হাতছানি দিয়ে ডেকে নেবে কাছে।

সন্ধ্যা ঘনাবে।

বাবলার অপূর্ব আলপনার ফাঁক গলে

চাঁদের মোম গলে গলে মিশে যাবে জলে। 

 

মৃত্যু

মৃত্যু ওৎ পেতে থাকে

বাজপাখির নখের মতো ।

উল্টে পাল্টে দেখে নেয়  

আর ছোঁ মারে ক্ষিপ্র উল্লাসে। 

যে পরম উৎসুক প্রাণ

প্রাত্যহিকতা আঁকড়ে 

 বেজে উঠতে চায় বারবার

তাকেও রেয়াত করে না

এ নির্মম খাদক। 

 জীবনের খেলাঘরে

কত খেলাকত রাত্রি দিন

কত প্রিয় মানুষের চলাচল। 

সব মুছে যায়

সব সরে যায় । 

চিতার আগুন নিভে গেলে 

এক পরম বিরতি। 

জন্মান্তর থাকে যদি

সে তবে বিরতির ওপার। 

ওপারে কি আছে জানা নেই কিছু 

এপারের তরণী বেয়ে 

লাভাস্রোত যত,

সুষুম্না খেয়ে নেয়

তবু তো আশা জাগে

তবু তো চাওয়ার শব্দ 

বেজে ওঠে হৃদয় জুড়ে। 

সব মাড়িয়ে কেমন

বেজে ওঠে মৃত্যু কখন। 

মৃত্যুর হৃদয় থাকে না যে। 

শুধু আপন মানুষের ঘরখানি 

 হাহাকারে কেঁপে ওঠে। 

বাতি নিভিয়ে কে যেন

চলে যায় ওপারে কোথায় । 

             

 

Post a Comment

0 Comments