কবি
কবিতা যত না প্রকট, ততটাই উত্তাপহীন নগর মলাটে পাশ ফিরে শুয়ে আছে বোধের নদী; শান্ত মৃদুমৃদু দোল খেতেখেতে ভেতরের অন্ধকার আছড়ে পড়ে তার পাড়ে। যেন দীর্ঘ অতল থেকে মলিন বের করে দেয় কল্পতরু—মিছিল। শুধু রয়ে যায় দীর্ঘমাত্রার বিনায়ক—স্পন্দন। যেটুকু ময়ূখ গলছে ব্রেইলসমগ্রে। সেইটুকু অন্ধ—ছড়ি ছাড়াই জেব্রাক্রসিং পার হই অনির্দেশ লাবণ্যে। কোনো প্রকটই কামের উত্তাপ থেকে অধিক প্রকট নয় জেনেও… কবিতানদীর তলদেশজুড়ে জলজ-অভিসম্পাতে কবির অধিবাস।
সমিধ অস্তিত্ব
ঘটমান বর্তমানে বসে—
বুকপকেটের অতীত আস্তিন খুলে ফেলি…
যৌথ খামারের পুরাধুনিক কর্মশালায়।
কেউ কারও তুল্য নয়। প্রত্যেকের Sequence
যতটা দুর্ভেদ্য প্রহেলিকা…
ততোটাই অস্তিত্বের সমিধ স্ফূলিঙ্গ।
উত্তমপুরুষ,
মধ্যমপুরুষ,
ও নামপুরুষ।
আলাদা আলাদা দুঃখ—
কোনো কোনো শোক তিসি খেতের ফুলে একাই...
হেঁটে যায় নীরবে, নিভৃতে শোকের পানশালায়।
আয়তন
মনে করো—
তুমি… আমার সত্তায় সর্বশেষ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত মাত্রা।
আর, আমি তার পরিসর জুড়ে...
দ্বিচক্রবাল আবাল—
ঈশ্বরকণার দিকে ঝুঁকে আছি বোধ ও বোধির অতলান্তে।
যেমন- তুমি a হও, b হলাম আমি,
যাকে h ধরতে চাই… সে নয়তো অন্তর্যামী?
h যুক্ত করতে পারলেই একটা সংজ্ঞায় পৌঁছানো যায়।
এখন প্রমান করি,
আমি
তুমি
ও সে
মিলে— V = a × b × h
কঠিন, তরল, বায়বীয় সকল আবেগে V এ লীন হতে
প্রত্যেকেই প্রত্যেকের
কাছে ফিরে যাই Angler Fish-এর বৈপরীত্যে।
ত্রিভুজের প্রতি বিন্দুতে দাঁড়িয়ে___
এসব আনোথা ভাবনায়… হেঁটে যাই সম্ভাব্য আয়তনের দিকে।
অবশেষে
যতই ভাগতে থাকো, গোলাকার লাট্টুর সুতোয়
একদিন আসতেই হবে ব্যাসার্ধের কাছাকাছি।
তখনও কী সুইমিং পুলে দিতে থাকবে ড্রাইভ?
নাকি মিলখা স্টাইলে ভাগতেই থাকবে অনন্ত!
নাহ্!
শীতের জ্যাকেট খুলে যেমন জড়িয়ে থাকে নরম-শরম আদরের
সাজেকভ্যালির তুলোতুলো আসমান।
তার চেয়ে চলো___
পান চিবাতে চিবাতে নাতি-নাত্তুরকে গ্রামোফোনের অতীত গল্প বলি।
সুরমা থেকে কালনী
বিপন্ন বিকেল ছেঁড়া ঘুমন্ত নূপুর
বাউলিয়ানা জোছনা খুলেছে আঁচল
উজান হাওয়ার পথ কাঁটাগুল্ম বন
বিছানা বিছায়ে রাখে মুখোশ-আড়াল।
অন্ধকার বিনির্মাণে;
মধ্যরাতের ধার্মিক পোহায় আগুন।
তবু___
শীতলপাটির জোছনারা তেপান্তরপাড়
হাওড় একাই হেঁটে পার হয়ে যায়—
মৃত্যুর খোঁয়াড়… ক্লান্তিহীন, বোবা ও বধির।
রোদ্দুর-নিঃশ্বাসে শুধু শেকড়ের টান!
সরলবক্রের জ্যামিতিতে সমস্ত পুরাণ অলংকারে
মানুষেরই আর্তনাদ।
সেখানে রক্তাক্ত… একমাত্র যন্ত্রণা— রূপক।
বিশ্বাসের প্রজ্বলনে—
জন্ম-জন্মান্তর মাটির মায়ার সন্নিহিত ভোরে
দুর্মর অক্ষর লেখে কবিতার স্বপ্ন,
প্রাণের ঐশ্বর্য সুরমা-নিষিক্ত জলে।
শুধু দাগ রেখে যাই—অনন্ত সাঁতারে, আর
দেহ থেকে খুলে রাখি নিষিদ্ধ শকুন।
সমস্ত উজার করে তুলে রাখলাম— কিছু নিষিদ্ধ-লোবান;
রাষ্ট্রের স্মারক হয়ে আবার আসব ফিরে…
_____কোনো এক শীতকালে।
প্রচ্ছদ শিল্পী: মিজান স্বপন
প্রকাশক: জাগতিক প্রকাশন
মুদ্রিত মূল্য: ১৬০ টাকা
2 Comments
আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।
ReplyDeleteশুভচ্ছা!
Delete