১
তারপর থেকে নিজেকে জীর্ণশীর্ণ
পুরান বাড়ি মনে হয়।
নিকুঞ্জ জানলা,
জানলার ওপারে— শ্লথ বাগান,
মরা পাতার পদ্য;
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শোবার খাট,
বুক সেলফ;
যেন কোন এক অসহায় শিশু—
কখনো এঘর/ কখনো ওঘরে,
থাকার বাসযোগ্য নয়,
কেন যেন থেকে যাবার প্রবল তাড়না।
২
অথচ তোমাকে মনে রাখার গভীর
কোন ঘটনা নাই।
এমন চোখের আলাপ,
আলিঙ্গন,
চুমু,
পাইকারি দরে পাওয়া যায়।
যেন কোন শীতের সকালে
ঘাসের উপর থেকে গড়িয়ে পড়েছে শিশিরবিন্দু।
৩
প্রত্যেকেরই নিজের কাছে ফিরতে হয়।
নিজস্ব পথ,
নিজের যে দূরবর্তী,
মাছের চোখ দিয়ে দ্যাখে পৃথিবী।
বাঘের শাবকের সাথে খেলা করে হরিণ,
নানান প্রতিঘাতে ছেঁড়া মণ্ডুও হেঁটে গেছেন।
সন্ধ্যের কার্পেট দিয়ে কুলায় ফিরে—
আলোর সাউন্ড বন্ধ করে নিজের বয়ান শুনতে হয়।
৪
আমি খুব ক্ষুধার্ত আছি।
বেশ কয়দিন হয়—
ছোটভাই বিকেল হলে রুমের দরোজা খুলছে না,
ল্যাম্পপোস্টের নিচে দেখা যায় না বোনের প্রেমিক,
একা একা সিগ্রেট খাই পারভীন আন্টির দোকানে,
যেখানে প্রায়শই কলেজ ফিরতি পথে কফি খেতাম—
নিতেশ
লিয়াকত
মিলে,
একেকদিন একেকজন বিল পে করতাম।
আম্মার তকদির কিম্বা আব্বার চরিত্র নিয়ে আমার অভিযোগ নাই
আমি খুব ক্ষুধার্ত আছি,
তোমার কথার রেসিপি খেয়ে ভরে না।
৫
আতঙ্ক খেয়ে আসা পাখিটি জানে 'আশ্রয়'
এক শঠ। যুদ্ধ শেষ হয়ে গেল, তারমানে–
নয় স্মৃতি অস্ফুট থেকে যাবে,
কখনো স্মৃতিপুষ্প যুদ্ধ হয়ে ফুটে
ভাতের মাড়ে স্নান সারে জনৈক ফড়িং,
পিঁপড়াটি সমুদ্র সাঁতরায়, অতল
একজন বীরাঙ্গনা সন্ধ্যার মাদুরে বসে-বসে ঝড়ের দেহ থেকে ছেটে দিচ্ছে বাতাস।

1 Comments
ছোট ছোট কবিতা। অথচ মনে রাখার মতো কোনো ঘটনা না থাকলেও কবিতাগুলি মনে রাখার মতোই । কথার রেসিং খেয়ে পেট ভরে না এটা যেমন ঠিক তেমনি মন ভরে এটাও ঠিক বলতে আমি বাধ্য। ভালো লাগলো। শুভেচ্ছা।—— যযাতি দেবল, পানাগড় গ্রাম, পশ্চিমবঙ্গ,ভারত।
ReplyDelete