আগুনের ঢেউ
ফিনিক্স পাখির মতো উড়তে শিখেছি
আগুন-আকাশ ও নীল দিগন্তে।
এবং আমি আগুনে হাত রেখে দেখেছি
কিছুই পোড়ে না, হৃদয় ছাড়া...
যুদ্ধের ময়দানে আমি অশ্বারোহী আপেল
নরম নদীর মতো ঝাপটে ধরেছি বন্দুকের বাট, আগুনের ঢেউ।
আলোর বৃষ্টি
চোখের গভীরে রোদ-রাত্রি
কঠিন-কোমল সৌন্দর্যের মর্মর পাথর
হাঁসগুলো ভেসে যায় বিশাল সমুদ্র
জলের উজানে ভাসে জলমুগ্ধ মাছ-শব্দহীন
বর্ষায়-বৃষ্টিতে ফোটে ফুল
উল্লসিত পাথর-পৃথিবী
ঝরে যায় প্রতারক প্রেম-জোছনা
অবিশ্রান্ত বৃষ্টির মেঘ
অসীম বিশ্বাসে ছুটে আসে প্রজ্বলিত ঘোড়া
এক আলোর পৃথিবী।
আমাদের অনুষ্ঠান
চঞ্চলা হরিণীর মতো আমরা ভেসে গেলাম
সমুদ্র থেকে সমুদ্রে,
পূর্ণিমার উদ্ভাসিত আলোয়
সঘন রৌদ্দুরে...
অবশেষে নাচসহ এক জটিল রসায়নের মধ্য দিয়ে
শেষ করলাম আমাদের তাবৎ অনুষ্ঠান।
ফিরে আসে বৃষ্টির গন্ধ
বৃষ্টি ভেজা রাত
খেলে যায়, হেসে যায়
আমার কষ্টের কারুকান্ত আল্পনা—
মনে পড়ে বৃষ্টিভেজা মাতাল গন্ধের রাত
তোমার চুলে লাগানো লেবুর সুবাস
আমার চারপাশে আষ্টেপৃষ্ঠে লেপ্টে থাকে অহর্নিশ
নারীর চুলের ভেজা গন্ধ
জোছনা অথবা শাওনের জল—
রাত গভীর হলে আমার ঘরে ফিরে আসে ঝিরঝিরে বৃষ্টির গন্ধ...
তোমার সৌন্দর্য
আমি বাতাসে লিখে রেখেছি তোমার সৌন্দর্যের কথা—
নীল চোখ
লাল ঠোঁট
সুডৌল বুক
নাভি ও নিতম্ব
উরুদেশ...
পৃথিবীতে খুব কম লোকই সৌন্দর্যের সন্ধান পেয়েছে।
এখন এপ্রিল
এখন এপ্রিল
তোমার চলে যাওয়ার মৌসুম
তুমি চলে গেলে বসন্তের কোনো একদিন।
অথচ আমি নির্বোধ নারীর মতো
সাগরপাড়ে বা শুঁড়িখানায় দাঁড়িয়ে বর্ষার দিগন্ত দেখেছি—
দিগন্ত দেখা মানুষের সংখ্যা এই পৃথিবীতে খুবই নগণ্য।
প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ
নদী আর নারীর মাংস খেয়ে দেখি, আহা
উড়ে যায় শীতের পাখি;
ঘাস-মাটি, হিজল ফুল, ঝরা মেপল পাতা
রাস্তা পড়ে থাকে রাস্তায়...
নদী আর নারীর মাংস খেয়ে দেখি, আহা
সব বসন্তে ভরে আছে ফুল
কৃষ্ণচূড়া-কৃষ্ণচূড়া, নটি-নাইটংগেল
পাপড়িগুলো ফুল হয়ে মেলে দ্যায় ডানা
নদী আর নারীর মাংস খেয়ে দেখি, আহা
আকাশে ভেঙে পড়া সন্ধ্যার সুর
রাত্রি-রাত্রি, বরফের বইড়ি ছল;
ফুঁ দেই ফেটে যায় আকাশের চাঁদ
নদী আর নারীর মাংস খেয়ে দেখি, আহা
প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ
ইলিশ, বেলে, বাইম... সমুদ্র-সাগর
এবং আপেলগুলো বদলে যায়—
নীল ঢেউ, পাখির গুঞ্জন— কাফকার আকাশ
এবং হরিণ হয় কোনো কোনো আপেল...
হে রমজানের নতুন চাঁদ
তুমি কি দেখেছো লজ্জায় এই পৃথিবী
ফের পরিণত হয়েছে দগ্ধ-ধূসর পান্ডুলিপিতে
মানুষের হাহাকার ও আর্তনাদ ভরে গ্যাছে
সুর-সমুদ্র: সোনালি ধানের মাঠ-দিগন্ত!
তুমি কি দেখেছো কী দুর্বিসহ
আমাদের এই কর্দমাক্ত কঠোর জীবন?
এখানে আমরা বর্ণচোরা ও বীভৎসতায় সর্বাঙ্গ ডুবে আছি—
ডুবে আছি ভারবাহী, এক ভারী অক্ষমতার জালে।
হে চাঁদ, নতুন চাঁদ!
কোথায় স্বাধীন শাদা কুসুমের সমারোহ
চারদিক চাল, শত স্বার্থের শাষণ নীগর-চোর-চন্ডাল, ভয়াবহ
মানুষেরে আজ ফেরাও অশুভ শক্তি ধ্বংস থেকে
নব-প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করো মুষ্টিবদ্ধ এই চির সবুজেরে।
0 Comments