সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের কবিতা


সময় প্রতিনিয়ত বয়ে যায়সুখ-দুঃখ, তাপ-সন্তাপ নিয়ে। সেই বয়ে চলা সময়ের সাথে মানুষের মনেও নানান ভাবনার উদয় হয়। একটা ধ্যানী বক কিংবা নিশুতি রাতে হুতুমের চোখের মায়ায় সময় কত কিছুর ছাপ ফেলে যায়। তার অনুবাদ কে করতে পারে? উড়ে যাওয়া মেঘের মনের আকুতি পড়তে পারে আকাশ। তাইতো ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলায়মেঘ, বৃষ্টি, রোদ, বিষন্নতা কিংবা অঢেল জ্যোৎস্না। তেমনই সময়কে অনুবাদ করতে জানেন কবি। তাঁর লেখায় ধরা দেয় সময়ের বেয়াড়া ঘোড়া। তাঁর যাপিত জীবনের সুখ-সন্তাপ আর আনুভূতির প্রগাঢ় প্রতিচ্ছবিই কবিতা। জানুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দে বয়ে চলা কিছু সময় এবং যাপিত প্রহরকে কবিতায় ধরেছেন সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল 


ব্যাকপেইন 

ব্যাকপেইনের ভূত ওয়াশ রুমের কমডে লুকিয়ে থাকে,

সুযোগ পেলেই মাজা–কোমড় মটকিয়ে দেয়।

হাসতে বারণকাঁশতে মানা

কাম বন্ধকাজ বন্ধ।

নট নড়ং চড়ং

গাছপাথর।

থ্যারাপি,

স্থির।

!

 

পি পু 

পা তুলে পি করলোঘাসের ঘ্রাণ শুঁকে পু করলো। পার্কে। 

পলিথিনে তুলে নিলে যত্নে।

তাকে নিয়ে দৌঁড়াও টাউম ওয়াচ বেঁধে–

আপেল গাছের ছায়া থেকে চেরি গাছের নিচে,

প্রাতঃ নয়অপরাহ্ন ভ্রমণে পাঁচ হাজার স্টেপ চক্কর খাও।

হঠাৎ দাঁডিয়ে অন্য কুকুর দেখে

লাফঝাঁপ দিয়ে ঘেউ-ঘেউ করলে টেনে ধরো লাগাম।

কাঠবিড়ালির সাথে যখন খেলে–

তখন তোমার চোখে-মুখে কী যে আনন্দতৃপ্তি!.

.

ওর ব্রেকফার্স্টলাঞ্চডিনার নিয়ে তুমি চিন্তিত

ঠিক করা আছে ডে-কেয়ারে রাখো।

দুসপ্তার জন্য ফ্রান্স ট্যুরে গেলে রেখে যাও পেইংগেস্ট

গান্ধীর ছাগলের মতো সাথে নিলেই পারতে।

.

এক সাথে জিওগ্রাফি চ্যানেল দেখো

জ্বরে পড়লে সারারাত অস্থিরতায় ওর সাথে ঘুমিয়ে থাকো!

ভ্যাকসিনের জন্য নিয়ে যাও এনিম্যাল হসপিটালে

উইন্টার ড্রেসের জন্য পেডশপে যাও

তোমরা দু'জনেই নিঃসঙ্গ!

তাই ছাগী পাল দেওয়ার মতো

ওর জন্য অনলাইনে খুঁজও সেক্সপার্টনার।

*

কিন্তু একজন মানুষকে সেই মর্যাদা দিলে না,

হৃদয়লালিত প্রিয়জনের চেয়ে গৃহপালিত গুরুত্ত্বপূর্ণ!

 

এবার একুশে পদক পাচ্ছেন কবিরাজ নাজমুন নবী 

*

সাংবাদিকেরা বড় মহা ফ্যাসাদে পড়েছেন,

কিছুতেই খোঁজে পাচ্ছে না এক অনাবিস্কৃত কবিকে।

তারা তছনছ করে হন্যে হয়ে  

হ্যাজাক-হারিক্যান দিয়ে গরু খোঁজা খুঁজছেন,

বাটি চালান দিয়েও পাচ্ছেন না সদ্য ঘোষিত একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যাক্তিকে! 

*

তারা বড় বড় কবিদেরকে ফোন করছেন,

তারা সচিবকে ফোন করছেন,

বাংলা একাডেমির ডিজিকে ফোন করছেন,

কে এই নব্য কবি!

যাকে কেউ চিনে নাতাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।

*

বাংলা কবিতায় বিশেষ অবদান রাখায় 

এবছর দুই হাজার কুড়ি সালের জন্য 

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় 

একুশে পদকপ্রাপ্ত মনোনীত কবি নাজমুন নবীর নাম ঘোষণা করেছে,

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়!

কিন্তু কেউ সেই কবির নাম শুনেননি,

তার কবিতাও পড়েননি!

*

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাখা দেয়া হয়েছেঃ

কবিরাজ নাজমুন নবী–এখন পর্যন্ত কোন কবিতা লিখেননি,

তাঁর বই বের হবার প্রশ্নই উঠেনা,

কবির কোনো পরিচয় নেই।

যেহেতু তিনি বাংলা কবিতার সামান্য ক্ষতি করেননি,

বাংলা কবিতার ১২টা বাজাননি।

সেই বিবেচনায় নাজমুন নবী এবার একুশে পদক অর্জন করলেন!

 

একটি আত্মহত্যার প্রস্তুতি 

খাতা খুলে দেখলেন 

সাহিত্য সম্পাদকদের কাছেই তিনি সব চেয়ে বেশি ঋণখেলাপি!

ছাতা ছাড়াই আজ একটু খোলা মাঠে যাবেন

খালি পায়ে সবুজ ঘাসে হাঁটবেন।

শ্বাসকষ্টটা বাড়ছে,

মন ও মাস্ক খুলে ইনহেলার ছাড়াই অক্সিজেন নিবেন

এবং একটু কাঁদবেন। 

*

পকেটে নিজের জীবনের মতো একটি অসমাপ্ত কবিতা

ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে

খাঁচার পাখির মতো মুক্ত করে উড়িয়ে দিলেন

আর আফসোস করলেন–আত্মজীবনীটা বাকী থাকলো।

সেই অভিমানে কয়েক ফোঁটা কাঁদলেন

*

ভাবলেনসিলভিয়া প্লাতের কথা

এতো উপায় থাকতে বেটি চুল্লিতে মাথা ঢুকাইয়া মরলি!

আত্মহত্যার কত পথ ছিলো,

এ বিষয়ে তিনি তিন মাস ধরে পড়াশোনা করছেন,

বই পড়ে পড়ে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করছেন।

এবং একা একা কাঁদলেন

*

কবি একগুচ্ছ প্রশ্ন নিয়ে

করোনা ভ্যাকসিনের মতো গবেষণা করছেন

কোন পদ্ধতিতে আত্মহত্যা সহজসুন্দরনান্দনিক

মৃত্যুর পর কোন দৈনিক প্রথম পাতায় খবরটা ছাপবে

কোন শালারা ছাপবে না‌,

কে কি ভাবে শোকাবিভূত হবেন?

অটোগ্রাফ দেয়া ফটোগ্রাফটা কি ফিচার পাতায় ছাপবে?

কবি-বুদ্ধিজীবীদের কবরেও কি সাপ-শেয়ালেরা বাসা!

আর ভাবতে পারেনা। 

কুয়াশায় চোখ ভিজে যায়কান্না পায়। কাঁদে।

*

কোনদিন নিজের পয়সায় মদ্যপান করেননি!

আজ ওয়াইন-হুইস্কি নয়

কবির খুবই বাকরখানি আর আখের রস খেতে ইচ্ছে করে–

শেষ বারের মতো একবার টিভিতে কবিতা পড়তে ইচ্ছে জাগে

এবং খালি শুন্য কবর দেখতে

আর জিয়ারত করতে মন চায়

আর একটি অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার রেখে যেতে চান।

তাঁর সাহিত্য কর্মের কোনো মূল্যায়ন হলোনা;

এই ভেবে আবারো একটু কাদঁলেন–

*

তিনি নানাদিক-নানীদিক হিসেব করে দেখলেন:

কবিতা লিখতে লিখতে শেষ পর্যন্ত আর বিবাহটাও হলোনা,

এবং এবারও

কবিকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার থেকে বঞ্চিত করা হলো।

পুরস্কারের কথা মনে পড়তেই

কবি হাউমাউ হাউমাউ করে পাগলের মতো কেঁদে উঠলেন!

 

টরন্টো

নিদ্রা 

ফ্লোরে রক্ত। চমকে উঠি।

জ্বর ১০৩। 

নিদ্রা নেই।

ঘুম আসছে না। পাঠ করি মন্ত্র।

ছু মন্ত্র ছু।

৯৯

৯৮

৯৭

৯৬

৯৫

.

.

.

চলছে কুফরি চর্চা। 

আসলে মাছের রক্ত। 

কামজ্বর! 

থার্মোমার

ক্লান্ত রাত। ফ্লোরে নিদ্রামাখা চোখ!

 

অতিথি 

একজন আরেক জনের অতিথি,

পরস্পরকে আপ্যায়ন করতে হয় যৌথ হাঁটায়যৌনতায়।

*

তার সাথে ভাগাভাগি করতে হয়–রুটিমাংস

বিজ্ঞানবেদনাবিছানাআনন্দ। তালাচাবি।

*

সম্মানিত অতিথি একটি ফুল বা ফুলের মতো,

সৌরভ সৌন্দর্য ছড়ায় এবং আংশিক অন্ধকার।

*

জীবনের অংশীদার গেস্টকে হোস্ট ভাবা সমীচীন নয়।

 

বাংলা কবিতার একটি দৃশ্য 

রাহমান ভাইআল মাহমুদসুনীল দা দৌঁড়াচ্ছেন। ভোঁ দৌঁড় 

প্রথমে ভেবেছিলাম,

কবিদের ৫০০ মিটার দৌঁড় প্রতিযোগিতা!

পরে বুঝতে পারিতাঁরা তাড়া খেয়ে প্রাণপন পালাচ্ছেন।

*

রাহমানের পরনে খালি আন্ডারওয়ার,

রাগে তোতলাতে তোতলাতে তিনি

ঢাকাইয়্যা ভাষায় গালি দিতে দিতে লাফ দিলেন বুড়িগঙ্গায়।

আর আল মাহমুদের এক হাতে চটি

অন্য হাতে সোনালী কাবিন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তিতাসে।

তাঁর উথাল-পাতাল সাঁতার দেখে জলপরীরা হাসতে থাকে।

সুনীল বাবু ধুতি খুলে দৌঁড়াচ্ছেন

হাঁপাচ্ছেন।

এবং শীতে কাবু তিনিও হাবুডুবু জল গিললেন গঙ্গাস্নানে!

*

ঢাকা আর কোলকাতার দুই উঠতি তরুণ কবি 

তাঁদেরকে হয়রানি করছিলো। 

কিন্তু ঘাওড়া কবি অর্ধ মাতাল শক্তি চট্টোপধ্যায় ঘুরে দাঁডিয়ে 

দুই তরুণকে থাপ্পড়ালেনতাওবা পড়ালেন।

তারপর ৩৩ বার 

কানে ধরে উঠবস করালেন।

 

শাদাছড়ি 

কি অপরাধে জন্মান্ধঅন্ধ?

অন্ধকার জীবন অনিবার্য কেন!

যথার্থ জবাবদিহিতার জন্য এ প্রশ্ন ছড়িয়ে দিয়েছি ইথারে।

প্রশ্ন রূপান্তরিত হয়েছে তীব্র ভীমরুলে।

*

আল্লাহর আরবি অক্ষর থেকে নিজের নগ্নতা

রঙআকারসৌন্দর্যসন্ধ্যাবসন্তজোছনা প্রভৃতি থেকে বঞ্চিত

তবু স্বপ্ন দেখে মানুষের মতো...

সেক্স করে মানুষের মতোমরে যায় মানুষের মতো।

কিন্তু মানুষের মতো ঘুমুতে পারেনা

টের পায় না রাতদিনের পার্থক্য।

*

আয়না দেখে নাচিনে না নিজের চেহারা! 

কানাদের নয়নে দৃষ্টি নেই,

তবু অন্ধরা স্বপ্ন দেখেকেমন তাঁদের স্বতন্ত্র স্বপ্নসমুহ,

কুকুর কিংবা শাদাছড়ি কি তা জানে অন্ধত্বের 

অনুভব আর অনুভূতির সম্পর্ক!

*

'অনুভব অনুভূতিকে ডাকুকতারা পরস্পর থাকুক',

নাসরীন জাহানের কবিতার মতো।

দেখেছি- তাঁদের হাতচোখমনচোখবোধচোখ

সেই সব নানাবিধ চোখের দৃষ্টিদৃষ্টিভঙ্গি। 

 

রাইস কুকার 

বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে রন্ধন

মৃত বা জ্বলন্ত নয়গুপ্ত এবং ঘুমন্ত আগুনের অংশগ্রহন

তবু মাতৃকোলের মতো নিরাপদ।

লাকড়িচুল্লিগ্যাস ইত্যাদি বিপদজ্জনক!

*

এপদ্ধতির ভেতরেঅন্তরে প্রচুর বাষ্পীয় উচ্চচাপে 

দ্রুত চাউলকে রূপান্তরিত করে গরম ভাতে!

গৃহিনীরা রাইস কুকারে ভাত উঠিয়ে সুইচ টিপে

বাচ্চা আনতে স্কুলে যায়,

নিশ্চিন্তে জড়িয়ে পড়ে অন্য কাজে।

*

স্বামীদের চেয়ে রাইস কুকার ভালোবেশ ভালো

এবং বিশ্বস্ত।

স্ত্রীরা মাঝে মাঝে চাল-ডাল-মশলা মিশিয়ে 

সহজ পদ্ধতিতে তৈরি করে খিচুরি!

জানি নাঋণকৃত এই মহান আবিষ্কারকের নাম।

*

আমার ভেতরেও আছে অনাবিষ্কৃত এক অদ্ভূত 

গোপন প্রেসার কুকার,

অদৃশ্য আগুনে নিরাপদে রান্না করি তোমাকে!

 

নবম শ্রেনি 

শূন্য এবং মহাশূন্যের মধ্যে দূরত্ব গণিত দিয়ে নির্ণয় করা যায় না।

শূন্য একা। এককভাবে অস্তিত্বহীন সংখ্যা এবং অঙ্ক।

শূন্য ধনাত্নকও নাঋণাত্নকও নানিরপেক্ষ!

পৃথিবীর প্রথম এবং একমাত্র অঋণাত্বক ক্লিব!

*

তুমিও একটি শূন্যকিন্তু নিরপেক্ষ নও। মৌলিক বা যৌগিকও না।

তুমিও দশমিকের ডাইনে এবং বামে সমান্তরাল।

সমান্তরাল ভাবে গুরুত্বহীন এবং গুরুত্বপূর্ণ

তুমি বিবাহিত হলে বদলে যাওসংখ্যার বন্ধনে বন্দি হয়ে তুমি পরী হয়ে উঠো!

তুমিও একককিন্তু জোড়া। যেহেতুঅদৃশ্য হয়ে তোমার সাথেই থাকি।

তুমিও একই সাথে শূন্যতা এবং পূর্ণতা ধারণ করো।

*

তোমার বিয়োগ বা পুরণ অথবা যোগফলভাগফল

আতাফলের মতো নয়;

তুমি আরেকটি শূন্যমানসঙ্ক।

*

নবম শ্রেনিতে তোমাকে জেনেছি- ৯এর পর আর কেউ কাছে থাকে না!

 

উদ্ভিদ আমাদের সহোদর 

আকাশ রোদ ছড়ায়

সাত আসমান থেকে জোছনা ঝরেবৃষ্টি নামে

রোদ-জোছনা-বৃষ্টি সহোদর।

আজ উপরের দিকে তাকিয়ে মইসিঁড়ি বেয়ে বেয়ে

বংশ লতিকায় শীর্ষে যাচ্ছিতত্ত্ব এবং সত্যের দিকে যাচ্ছি

রাসায়নিক আর জৈবএর বিবর্তনের দিকে যাচ্ছি।

*

উদ্ভিত + প্রাণী বহুকোষী জীব প্রোটোজোয়া ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস 

প্রোটাভাইরাস > নিউক্লিওপ্রোটিন >> নিউক্লিক এসিড + প্রোটিন 

এ্যামাইনো এসিড >>> মিথা + এমোনিয়া + জলীয় বাষ্প >>

কার্বন-ডাইঅক্সাইড + নাইট্রোজেন + হাইড্রোজেন।

*

এভাবেই রোদ. জোছনা. বৃষ্টি মাটি স্পর্শ করে।

এবং এভাবেই আমাদের আদি ভিটেবাড়ি জন্মউৎস + আমাদের উৎপত্তি

উদ্ভিদ আমাদের সহোদর।

 

বিমানবালা 

ছেলেটি গাছে পাখির বাসায় পাখিছানা ধরতে গিয়ে 

পাখিবাচ্চার সাথে বাতাসে উড়াল দিলো,

উড়তে উড়তে আকাশ থেকে ধরে নিয়ে এলো লাটাই ছেঁড়া ঘুড়ি।

সেদিনই বলেছিলাম–

এই ছেলে বড় হয়ে একদিন বিমানের পাইলট হবে।

*

সে উড়োজাহাজের পাইলট হতে পারেনি।

তবে স্বপ্ন আংশিক পূর্ণ হয়েছিলো

বিবাহ করেছিলো- উড়ন্ত  এক পরীকেবিমানবালাকে!

 

Bangladesh

 

What is my name?

I might even forget my name

Maybe I'll forget...

Forget- everything.

Even looking at myself in the mirror

           I don't know.

My Memory may be corrupted, may be lost,

                                   or may have trouble!

.

But I will not forget my flag,

I will never, ever forget you, Bangladesh.


এই লেখকের আরও লেখা... 

হুইস্কির গ্লাসে তারকাঁটা ও অন্যান্য ।। সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল


Post a Comment

0 Comments