সময় প্রতিনিয়ত বয়ে যায়—সুখ-দুঃখ, তাপ-সন্তাপ নিয়ে। সেই বয়ে চলা সময়ের সাথে মানুষের মনেও নানান ভাবনার উদয় হয়। একটা ধ্যানী বক কিংবা নিশুতি রাতে হুতুমের চোখের মায়ায় সময় কত কিছুর ছাপ ফেলে যায়। তার অনুবাদ কে করতে পারে? উড়ে যাওয়া মেঘের মনের আকুতি পড়তে পারে আকাশ। তাইতো ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলায়—মেঘ, বৃষ্টি, রোদ, বিষন্নতা কিংবা অঢেল জ্যোৎস্না। তেমনই সময়কে অনুবাদ করতে জানেন কবি। তাঁর লেখায় ধরা দেয় সময়ের বেয়াড়া ঘোড়া। তাঁর যাপিত জীবনের সুখ-সন্তাপ আর আনুভূতির প্রগাঢ় প্রতিচ্ছবিই কবিতা। জানুয়ারি ২০২১ খ্রিস্টাব্দের সময় এবং যাপিত প্রহরকে কবিতায় ধরতে চেয়েছেন সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল।
।। প্রেসক্রিপশনে ।।
পরশু থেকে আমার ছায়া নিখোঁজ, ছায়াসঙ্গী আমার সঙ্গে নেই,
কি অদ্ভূত ঘটনা; তাকে খুঁজে পাচ্ছিনা!
তাহলে কি ত্যাগ এবং পদত্যাগ করে পালিয়েছে
*
এক বার ভূতের ছড়া লিখেছিলাম
ছোটদের কাগজে।
তাহলে কি সেই ঘটনার জের ধরে
আমাকে অন্ধকারে নগ্ন করে গা থেকে খুলে নিয়ে গেছে,
নাকি মিলিয়ে গেছে ঘুমন্ত রাত্রির ভেতর।
আমাদের উপর ছায়ারা খুবই বিরক্ত,
ক্ষুব্ধ!
*
প্রাণ দেহত্যাগ করে কিন্তু ছায়া কবরেও যায়।
হারানো ছায়ার সন্ধানে এলোমেলো পাঠ করি-
কোরআন, বিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান।
নবীজির ছায়া ছিলোনা, এটা মিথ্যে
একমাত্র যারা নূর সৃষ্ট, তাদেরই ছায়া থাকেনা
আর বিজ্ঞান বলছে—আলোর প্রতিবিম্বই ছায়া;
ছায়া তো অলৌকিক—লৌকিকতায় দ্রবীভূত,
বায়বীয় মূর্তি।
*
‘শাড়ি এবং ছায়া অবলম্বনে’ নাটকে বলেছিলাম,
নারীদেরছায়া দু'টি আর পুরুষের একটি
সেটিও হারিয়ে গেলো, কোথায়!
ফ্যামিলি ডাক্তারকে বলি,
দেখুন- আমার শরীর থেকে আমার ছায়া উধাও
আমি একা; নিঃসঙ্গ। এলোমেলো হয়ে যাচ্ছি—
*
তিনি প্রেসক্রিপশনে লিখে দিলেনঃ
থানায় ডায়েরি করুন। বৃষ্টির পানি খাবেন।
ঘুমাবেন না। নিজের সাথে মনোলগ করবেন না?
কোনো নারীর সাথেই কথা বলবেন না; সুগারের মতো নিষিদ্ধ।
বেশি বেশি ভূতের বই আর
আয়তুল কুসরি পড়বেন।
টরন্টো, ৩০ জানুয়ারি, ২০২১
।। একটি আত্মহত্যার প্রস্তুতি ।।
খাতা খুলে দেখলেন
সাহিত্য সম্পাদকদের কাছেই তিনি সব চেয়ে বেশি ঋণখেলাপি!
ছাতা ছাড়াই আজ একটু খোলা মাঠে যাবেন
খালি পায়ে সবুজ ঘাসে হাঁটবেন।
শ্বাসকষ্টটা বাড়ছে,
মন ও মাস্ক খুলে ইনহেলার ছাড়াই অক্সিজেন নিবেন
এবং একটু কাঁদবেন।
*
পকেটে নিজের জীবনের মতো একটি অসমাপ্ত কবিতা
ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে
খাঁচার পাখির মতো মুক্ত করে উড়িয়ে দিলেন
আর আফসোস করলেন—আত্মজীবনীটা বাকী থাকলো।
সেই অভিমানে একটু কাঁদলেন।
*
ভাবলেন, সিলভিয়া প্লাতের কথা
এতো উপায় থাকতে বেটি চুল্লিতে মাথা ঢুকাইয়া মরলি!
আত্মহত্যার কত পথ ছিলো,
এ বিষয়ে তিনি তিন মাস ধরে পড়াশোনা করছেন,
বই পড়ে পড়ে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করছেন।
এবং একা একা কাঁদছেন।
*
কবি একগুচ্ছ প্রশ্ন নিয়ে
করোনা ভ্যাকসিনের মতো গবেষণা করছেন
কোন পদ্ধতিতে আত্মহত্যা সহজ, সুন্দর, নান্দনিক
মৃত্যুর পর কোন দৈনিক প্রথম পাতায় খবরটা ছাপবে
কোন শালারা ছাপবে না,
কে কি ভাবে শোকাবিভূত হবেন?
অটোগ্রাফ দেয়া ফটোগ্রাফটা কি ফিচার পাতায় ছাপবে?
কবি-বুদ্ধিজীবীদের কবরেও কি সাপ-শেয়ালের বাসা!
আর ভাবতে পারেনা।
চোখ ভিজে যায়; কান্না পায়। কাঁদে।
*
কবির খুবই বাকরখানি আর আখের রস খেতে ইচ্ছে করে—
শেষ বারের মতো একবার টিভিতে কবিতা পড়তে ইচ্ছে জাগে
এবং খালি শুন্য কবর দেখতে
আর জিয়ারত করতে মন চায়
আর একটি অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার রেখে যেতে চান।
তাঁর সাহিত্য কর্মের কোনো মূল্যায়ন হলো না;
এই ভেবে আবারো একটু কাদঁলেন।
*
তিনি নানাদিক-নানীদিক হিসেব করে দেখলেনঃ
কবিতা লিখতে লিখতে শেষ পর্যন্ত আর বিবাহটাও হলোনা,
এবং এবারও
তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার থেকে বঞ্চিত করা হলো।
পুরস্কারের কথা মনে পড়তেই
কবি হাউমাউ হাউমাউ করে পাগলের মতো কেঁদে উঠলেন!
টরন্টো, ২৯ জানুয়ারি, ২০২১
।। আমরা গ্রেফতার হয়েছি, জেল খেটেছি ।।
[অমি রহমান পিয়াল, প্রিয়জনেষু]
আমরা চোর, আমরা ছিনতাইকারী,
আমরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী।
অপরাধী বলে পুলিশ, সেনাবাহিনী আমাদের গ্রেফতার করে।
*
আমি জ্যঁ ক্যুয়ে,
প্যারিসের অর্লি বিমানবন্দরে ছিনতাই করেছি পাকবিমান
ত্রাসের বিনিময়ে চেয়েছি ত্রাণ, কুড়ি টন ওষুধ
স্বজনের সামান্য শান্তির জন্য।
*
আমি মারিও রয়ম্যান্স,
বেলজিয়ামের মিউজিয়াম থেকে চুরি করেছি-
১৫ বাই ১৭ ইঞ্চি দ্য লাভ লেটার,
মুক্তিপণের যুক্তি এবং চুক্তি ছিলো- ২০০ মিলিয়ন ফ্রাংক।
*
পাঁচ বিদেশি আমরা কারাগারে ছিলাম-
রিচার্ড টেলর, এলেন কনেট, গর্ডন স্ল্যাভেন
আমার গ্রেফতার হয়েছি, আমরা জেল খেটেছি-
আমাদের ক্ষুধার্ত বোনদের,
আমাদের শরণার্থী ভাইদের জন্য,
পূর্ব পাকিস্তানের জন্য!
টরন্টো, জানুয়ারি ২৮, ২০২১
[বিঃ দ্রঃ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার জন্য পাঁচ+ জন বিদেশি বন্ধু গ্রেফতার হন এবং জেল খাটেন। তাঁরা হলেন- জ্যঁ ইউজিন পল ক্যুয়ে, মারিও রয়ম্যান্স, এলেন কনেট, গর্ডন স্ল্যাভেন, রিচার্ড টেলর এবং সহকর্মীরা।
প্যারিসে বিমান ছিনতাইকারী জ্যাঁ (৩ ডিসেম্বর ১৯৭১-১০ অক্টোবর ১৯৭৩ পর্যন্ত) বেলজিয়ামে শিল্পকর্ম চোর মারিও রয়ম্যান্স(৬ অক্টোবর ১৯৭১ থেকে ডিসেম্বর ১৯৭১)।
আমেরিকায় বাল্টিমোর বন্দরে পাকিস্তানি যুদ্ধ জাহাজ পদ্মার বিরুদ্ধে ৫টি প্রতীকী ডিঙি নৌকার নিয়ে প্রতিবাদের অভিযোগে রিচার্ড টেলর সঙ্গীসহ (১৪ জুলাই ১৯৭১-১৫ জুলাই ১৯৭১) আর যুক্তরাষ্ট্রের এলেন কনেট এবং গর্ডন স্ল্যাভেন যশোরের শিমুলিয়া মিশন থেকে (৪ অক্টোবর ১৯৭১-৭ ডিসেম্বর ১৯৭১) গ্রেফতার হয়ে জেল খাটেন।]
।। আওয়াজ ।।
হ্যা, আওয়াজ করতাম। অনেক অনেক আওয়াজ
আওয়াজে আওয়াজে...
পাশের ঘরের প্রতিবেশিরাও জেগে উঠতো,
বিব্রত হতো বাতাস
ভয় পেতো ভূত এবং বিড়াল।
আওয়াজের আনন্দে, মহানন্দে রাঁচি হয়ে উঠতো বাথরুম
অদ্ভূত আওয়াজে অর্জিত হতো শীর্ষ বিজয়।
*
এখন করি না। হর্ণ বাজে না।
ভেতর থেকে আওয়াজ আসেনা। ভণিতাও নেই।
হারিয়ে গেছ যুগ্ম-আওয়াজ; চুপসে যাওয়া বেলুন।
*
সহঅভিনেত্রীর ভাষ্য কি হাস্যকর?
‘ড্রাইভার পাল্টাও, আবার বেজে উঠবে হর্ণ’!
টরন্টো, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১
।। দারিদ্র ভাবনা ।।
পাখিরা কখনোই দুপুরের লাঞ্চ নিয়ে ভাবে না
পিঁপড়ারাও ব্রেকফার্স্ট বা ডিনার নিয়ে চিন্তিত নয়
জেব্রা, জিরাফদের হাট-বাজার, রেস্টুরেন্ট নেই।
*
‘স্বামী দরিদ্র থাকলে সংসারে শান্তি আসে,
অর্ধেক অভাব পুষিয়ে দেয় ভালোবাসা দিয়ে’।
কি হাস্যকর হুমায়ূন আহমেদ!
*
দারিদ্র্য নজরুলকে মোটেও মহান করেনি,
বরং কেড়ে নিয়েছিলো—
শক্তি, বাকশক্তি, স্মৃতিশক্তি
আক্রান্ত করেছিলো পিক্স ডিজিজে।
*
‘কেবল শিক্ষাই পারে দারিদ্র বিমোচন করতে’
কিন্তু পাখি-পিঁপড়া-হরিণেরা দরিদ্র নয়,
তারা শিক্ষিতও নয়।
ধানমন্ডিতে, ব্লোর স্ট্রিটে বা বেগমপাড়ায় বাড়ি নেই,
তারা কেউ স্নাতকোত্তরও নয়!
টরন্টো, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১
।। ভাষা ।।
সুন্দর সুন্দর শব্দাবলি বনমালির মতো তুলে
যত্ন করে রাখি ফুলটবে;
ভাষায় এতো আনন্দ, সৌন্দর্য; এতো শান্তি, তৃপ্তি!
অভিধান থেকে কথা, মমতা, কোমলতা, নম্রতা, তারুণ্য
এনে সাজিয়ে রাখি বুকশেলফে!
*
আর কবিতা রচনার মতো ভাষায় রান্না করি অনুবাদ।
পাঠশালার বর্ণমালার ঘ্রাণ জড়ানো সুরেলা গান-
সাজাই গ্রামোফোনে, ভাষার ভালোবাসা-
বিছানার টাটকা চাদরে বিছিয়ে রাখি উজ্জ্বল উচ্চারণ।
*
আর তুমি অথবা তোমরা ভাষার ভান্ডার থেকে
হিংসা, ঘৃণা, চিৎকার, নোংরা শব্দ,
গুলি ও গালি ছড়িয়ে দাও বাতাসে।
বাতাস বিরক্ত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়
মিউনিসিপ্যালিটির গার্বেজের মতো,
বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠে চোতরা পাতার ঝাঁঝালো ঝালে!
*
ভাষার মধ্যে এতো পঁচা, নোংরা, বিষাক্ত তীর, নিষিদ্ধ শব্দ
আমার মোটেও জানা ছিলো না!
যা নারীকে কাঁদায়, পুরুষকে কষ্ট দেয়;
আমার ভীষণ লজ্জা করে!
টরন্টো, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১
।। কৃষিক্ষেত ।।
দুর্বোধ্য দ্রৌপদী বনবাসে এসে অস্থির বন কুমারী, বনপরী
নিজেই নিজের বস্ত্র খুলে জল কুমারীর মতো নগ্ন স্নানে
জলাশয়ের জলগর্ভে ছড়িয়ে দেয় ডিম্বাণু
শুক্রাণুর নিষিক্ততায় জলসাঁতার খেলতে খেলতে ভেসে উঠে
পিচ্চি পিচ্চি পোনা।
*
মনপরী তার ভেজা স্তনগুলো শুকাতে দেয় বৃক্ষের বারান্দায়
গাছগাছালির শাখায় শাখায় স্তন ফুটে ফুটে ফুল হয়;
ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় অভয়ারণ্য, বসুন্ধরা।
*
রূপান্তরিত হবার মন্ত্রে হরিণ হয়ে ঘুরে বেড়ায় সুন্দরবনে
কস্তুরির ঘ্রাণে এবং ঘোরে পাখিরাও ঋতুবতী হয়।
*
বনপরী অতি আয়েশে তার হাত পা ছড়িয়ে চারিদিকে
শুয়ে থাকে ঘাসে উপর, মাঠের বিছানায়।
মাঠের পর মাঠ আর মাটি হয়ে ওঠে—
শস্যবতী কৃষিক্ষেত।
টরন্টো, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১
।। গাছপান ।।
ডংরি আর তেরেনা এক বিছানায় ঘুমায়, ভিনদেশে।
অতীতের মতো বর্তমানও কি একটা ভিনদেশ?
*
দু’জনের বুকেই স্বদেশিয় হিন্দি এবং স্প্যানিশের ঘ্রাণ
ছাড়াও মুখে প্রদেশিক মাতৃভাষা-
-ডংরি, তেরেনা।
তারা ভালোবাসে, এক সাথে গ্রন্থিত তাদের জীবন
তারা সেক্স করে তৃতীয় আরেক ভিন্ন ভাষায়
তাদের ভাষান্তরে বেরিয়ে আসে—
অনুদিত ফুটফুটে ফুল!
ফুল ফুটে সৌন্দর্য ছড়ায়, সৌরভ ছড়ায় বিদেশি বাতাসে।
*
এক সন্ধ্যায় ভারতে-ব্রাজিলে ব্যাকহোমে যখন ফিরে
তখন ডংরি আর তেরেনার অস্তিত্বের প্রদীপ বিলুপ্ত!
আর অপেক্ষারত মা
বাড়ির পেছনের সাজনা গাছের ছায়ায়
পূর্ণদৈর্ঘ ঘুমে শায়িত, শান্ত—মৃত বর্ণমালার মতো।
*
স্বজন সাজনা গাছকে মায়ের শাড়ির মতো জড়িয়ে
কাঁদছে একটি গাছপান!
টরন্টো, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১
।। হুইস্কির গ্লাসে তারকাঁটা ।।
নির্মাণাধীন সম্পর্ক যন্ত্রকলে যাতাপিষ্টে গুড়িয়ে গুড়ো করে দিলে—
শাদা-কালো, লালফুল, অক্সিজেন, চায়ের কাপ, তাল ও তিল,
রঙ্গিন রোবার, স্বামীর শীতল সেক্স, অনুবাদ, আত্মীয়তা—
সিটি কর্পোরেশনের বোল্ড ডুজারে চাকাপিষ্টে মাটিতে মিশিয়ে দিলে
যেনো অবৈধ স্থাপনা!
আচ্ছা, অবৈধ স্থাপনা আর অবৈধ সম্পর্ক কাহাকে বলে?
*
টোকিও ইসাসাকির খোলাকাশের নিচে ধ্বংসস্তুপের বিশাল গ্যারেজের
পুরনো ভাঙাচুরা, দুর্ঘটনায় কবলিত নতুন গাড়ি
ক্র্যাশিং মেশিনের ভয়াবহ দৃশ্যকেও হার মানিয়ে
চূর্ণ-বিচূর্ণ, নাশ-বিনাশ করে
ধোলাই খালের কারখানার শ্রমিককে গালি দাও!
শ্মশানে আবর্জনার লাশ পুড়িয়ে
তুমি হাসতে হাসতে তিরোধান হও জ্বলন্ত বিধ্বস্ত বৈরুত থেকে।
দাহ্যকৃত ধনী লালআগুন হাসতে হাসতে লাফাতে থাকে
দাহকৃত দরিদ্র ভষ্মবস্তু কাঁদতে কাঁদতে
শ্রমিক অথবা ছাই হয়ে যায়।
*
এখন তোমার ছায়াও বিধ্বস্থ বিমানের মতো খন্ড খন্ড
গুড়ো গুড়ো অথবা টুকরো টুকরো ভাঙা আয়না,
চুকিচুকি আলুভাজি, কচুকাটা করলাভাজির বাটিতে লোহার ভগ্নাংশভাজি,
তোমার ভাতের থালায় এখন চূর্ণ-বিচূর্ণ কাঁচ ও কংক্রিট
তোমার হুইস্কির গ্লাসে তারকাঁটা, শিংমাছ।
টরন্টো, ২২ জানুয়ারি, ২০২১
।। আলিফ ।।
দুপুরে রিকশাওয়ালা হয়ে লবনাক্ত পিঠে দেখলাম
ক্লান্ত পা ফোলে রগ টনটন টনটন করছে।
এক রাতে কাজের বুয়া হয়ে জানলাম—
গৃহপালিত বিড়াল দুধ খেতে চায়!
*
এবং মাদ্রাসায় আরবি পড়তে পড়তে দেখলাম
আলিফের উত্থান!
টরন্টো, ২১ জানুয়ারি, ২০২১
।। আমার কোনো সন্ধ্যে নেই ।।
একটি দীর্ঘ দুপুর অপেক্ষা করে অপরাহ্নের জন্য,
অপরাহ্ন অপেক্ষা করে বিকেলের আগমন।
ভিক্ষুকের ক্ষুধার্ত হাতও অপেক্ষা করে—
বাসিভাতের আশায়, প্রত্যাশায়।
*
শনিবারও প্রতীক্ষায় থাকে রোববারের,
গ্রীষ্মকাল চাতক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে—
বর্ষার দিকে।
ডিসেম্বর বিদায়ী আয়োজনে আত্মোজ্জ্বলতা ছড়ায় অনুজ জানুয়ারির জন্য।
*
ট্রেনের জন্য যাত্রিরা,
একটি রোড অপেক্ষা করে আরেকটি স্ট্রিটের,
গর্ভবতী রাত ফুরিয়ে যায় একটি ফুটফুটে সকালের আকাঙ্ক্ষায়।
বাঁশির ব্যাকুলতা অপেক্ষায় থাকে কাংখিত ঠোঁটের স্পর্শের
জীবন অপেক্ষা করে আজ্রাইলের জন্য।
*
আমার কোনো সন্ধ্যা নেই, সোম নেই, শরৎ নেই,
সড়ক নেই; অপেক্ষা নেই।
টরন্টো, ২১ জানুয়ারি, ২০২১
।। বেকারভাতা ।।
বয়সের সাথে বেড়ে ওঠে পাপবোধ, পরাজয়
হিংসা লতিয়ে ওঠে লোভ, লাবণ্য
ঈর্ষা, অপরাহ্ন।
*
আলোর বিপরীতে ছায়া হয়ে থাকে
ব্যর্থতার বকুল ফুল
বেকারত্ব কেড়ে নেয় লাবণ্য দাশ,
0 Comments